সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের হাতে আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সনদ তুলে দিচ্ছেন আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি প্রেস পার্টনার্সের সভাপতি র‌্যান্ডল স্মিথ। ২১ জুন ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের হাতে আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সনদ তুলে দিচ্ছেন আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি প্রেস পার্টনার্সের সভাপতি র‌্যান্ডল স্মিথ। ২১ জুন ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র

আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি প্রেস পার্টনার্সের এই ফেলোশিপ প্রোগ্রাম বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত।

মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জার্নালিজমের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আধুনিক কৌশল, তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং, পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়।

আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ক্লাসের ফাঁকে প্রশিক্ষক ও ফেলোরা

রোজিনা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রথম আলোর ক্যালিফোর্নিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে রোজিনা ইসলাম দেশ-বিদেশে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে নেদারল্যান্ডসের ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড থেকে ‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পান। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘অ্যান্টি-করাপশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড’ পান তিনি।

আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ

আলফ্রেড ফ্রেন্ডলি ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দক্ষতা, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত সক্ষমতার উন্নয়নে কাজ করা হয়। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া এই ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় এখন পর্যন্ত ৯০টির বেশি দেশের ৪০০-এর বেশি সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। চার সপ্তাহব্যাপী সশরীর (ইন-পারসন) এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে শুরু হয়ে ২১ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সম্মেলনের (আইআরই সম্মেলন) মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ফেলোশিপে অংশগ্রহণকারীরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির আধুনিক নানা কলাকৌশল, ডেটা সাংবাদিকতা, সরকারি নথি অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, মিডিয়া আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং বার্তাকক্ষের নেতৃত্ব বিষয়ে গভীর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি কর্মশালা, কেস স্টাডি (ঘটনা বিশ্লেষণ), দলগত অনুশীলন এবং অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে এখানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়ার সামনে অন্য ফেলোদের সঙ্গে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

এই ফেলোশিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা একসঙ্গে কাজ করে নিজ নিজ দেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নতুন অনুসন্ধানী পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এতে একটি বৈশ্বিক সাংবাদিকতা নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফেলোশিপের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আইআরই সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে ডেটা সাংবাদিকতা, ক্রস-বর্ডার ইনভেস্টিগেশন (একাধিক দেশে অনুসন্ধান), আধুনিক বার্তাকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়।

মিজৌরিতে অবস্থানকালে ফেলোরা আদালত, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, বিচারক, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা জনস্বার্থ সাংবাদিকতায় আইন, অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সামাজিক কাঠামোর ভূমিকা আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।