মুঠোফোনে রিচার্জ করা ব্যালান্স (এয়ারটাইম) ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং বছরে ২০ হাজার টাকার ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন।
মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে একজন গ্রাহক মুঠোফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে মাসে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকার পণ্য বা সেবা কিনতে পারতেন।
এমটবের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার প্রথম আলোকে বলেন, এখন থেকে মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা মাসিক ৬০০ টাকার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার টকটাইম ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন। এই সেবার আওতায় ৩৩টি সরকারি সেবা, যেমন নাগরিকত্ব, জাতীয়তা, মৃত্যু, এতিম ও বিবাহ সনদ, নতুন ভোটার যাচাইসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ওটিটি ও বিনোদনমূলক সেবা কেনা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ডিওবি পরিচালনা করা যাবে।
তবে নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত মুঠোফোন অপারেটরগুলোকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সাময়িকভাবে ডিওবি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে মুঠোফোন অপারেটরদের কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে আছে—মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন মেনে চলা এবং কেবল মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পণ্য বা সেবার কেনাবেচা করা, ডিজিটাল পণ্য বা সেবা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুঠোফোন অপারেটরদের নিজস্ব পণ্য বা সার্ভিস (যেমন ডেটা) কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি কেনাবেচা না করা।
এ ছাড়া এর আওতায় স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল অ্যাসেট কেনাবেচা, ফরেক্স বা শেয়ারবাজারে ট্রেডিং, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রবাসী কোনো মার্চেন্টের পক্ষে সেবা বিক্রির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রয়োজন হলে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল পণ্য বা সেবার ডেলিভারি নিশ্চিত করা, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।