হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট: নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমে বাধা কাটল

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

ফলে গত ২ সেপ্টেম্বর গঠিত নতুন বোর্ড কার্যকর থাকবে ও তারা স্বাভাবিকভাবে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অব্যাহতি দিয়ে ২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। এ অনুযায়ী পদাধিকারবলে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী। সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা সিকদারকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং তপন চন্দ্র মজুমদারকে সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

ওই প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য, পদাধিকারবলে নিযুক্ত ট্রাস্টি ছাড়া অন্য ট্রাস্টিদের মেয়াদ হবে তিন বছর। নতুন ট্রাস্টি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় অন্য ট্রাস্টিদের পরিবর্তন বা পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে।

ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে রিট করেন আগের ট্রাস্টি বোর্ডের দীপক কুমার পালিত। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ১৩ অক্টোবর রুল দিয়ে নতুন বোর্ড গঠনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবেদন করেন, যা চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪-২৫ সালে একটি বোর্ড গঠিত হয়েছিল। তবে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আইনে পরিষ্কার বলা আছে, সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে ট্রাস্টিদের পরিবর্তন ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করতে পারে। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন। ফলে ২ সেপ্টেম্বর গঠিত নতুন ট্রাস্টি বোর্ড কার্যকর থাকবে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।