সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

চানখাঁরপুল মামলা

বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ সদস্যরা আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মুক্তি না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পর্যবেক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন।

ওই মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন ও ফৌজদারি আপিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। আজ আদালতে শুনানি করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

পরে চিফ প্রসিকিউটর প্রথম আলোকে বলেন, আপিল (ট্রাইব্যুনালের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মুক্তি না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুজন হোসেনের সাজা কমানোর ব্যাপারে যেসব পর্যবেক্ষণ ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ জানুয়ারি রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে অপর পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ডিএমপির রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় দণ্ডিত আট আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। তাঁরা হলেন হাবিবুর, সুদীপ, আখতারুল ও ইমরুল। আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুল কারাগারে রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড মামলার রায়ে আসামিদের অপেক্ষাকৃত কম সাজা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তার স্থগিতাদেশ এবং আসামিরা যেন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন ও মুক্তি না পান, তা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।