মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বাধীন সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথিও জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের পৃথক দুজন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এই আবেদন করেন। আজ আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল ২৮ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন।
সূচনা ফাউন্ডেশনের বিষয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশনটি ২০১৫-১৬ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মোট ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা কর জমা না দিয়ে প্রতারণা ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কর জমা–সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তৈরি করে অডিট প্রতিবেদনে আয়কর খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা ও ৪৬৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনসহ অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সূচনা ফাউন্ডেশনের শুরু থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ, বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক খায়রুল হাসান।
আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন–২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন–২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দুদক মামলা করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির আয়-ব্যয়ের সঠিকতা এবং তাঁর মালিকানাধীন অন্য কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করার জন্য তাঁর আয়কর নথি জব্দপূর্বক পর্যালোচনা করা আবশ্যক।