হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া’র ঘোষণাসংক্রান্ত দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার করা রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রিটটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে দেওয়া) করে দিয়েছেন।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আবেদনকারী হয়ে গত রোববার ওই রিট দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকার ১১২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, আইনজীবী ইউসুফ আলী, জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান।

পরে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন। অবকাশের পর (২৫ অক্টোবর) হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর ভাষ্য, দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে জানানো হয়। এই ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং দুদকের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন। ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংয়ের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করেই আসিফ মাহমুদ রিটটি করেন।

রিটের প্রার্থনায় ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান অবস্থায় সে বিষয়ে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রিটে রুল চাওয়া হয়েছে।

রিটে চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।