সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও হাছান মাহমুদ
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও হাছান মাহমুদ

বেতারে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল

সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইনু ও হাছান মাহমুদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশ বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও মোহাম্মদ হাছান মাহমুদসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ রোববার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপাদান অপরিহার্য হলে তা ডিপিপি সংশোধন করে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কিন্তু ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না। নীতিমালা লঙ্ঘন করে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক দুই মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও নারায়ণ চন্দ্র শীল, সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, উপস্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে সাত কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় কাজটি মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তুলে নেয়। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে ম্যুরালের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি।

দুদক জানায়, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।