
সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। বৈঠকের পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এই অভিযোগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রাম–৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। মামলায় তাঁকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ রেকর্ডিংগুলো যাচাই করে দেখেছে। এ নিয়ে আজ একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।
সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাঁকে মামলাটি থেকে সরিয়ে দেন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে সাইমুমের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেননি তাজুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও সাইমুমকে সরানো হয়নি।
সাইমুমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাঁকে প্রসিকিউটর পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা গতকাল সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে জানায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাইমুম।
সাইমুমের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খবরটি তাঁর বাসায় বসে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্রসিকিউটরদের বলেন যে, তাঁরা যেন সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকেন। এ বিষয়টি কী, কেন হলো—এই ব্যাপারগুলো তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছেন। যে প্রসিকিউটরের কথা বলা হচ্ছে, তিনি সম্ভবত আজ থেকে দুই বা তিন দিন আগে তাঁর কাছে একটা পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন।
সাইমুমের বিষয়ে যে সংবাদ বেরিয়েছে, তাতে ব্যথিত বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আজকে যে নিউজটা...যদি কোনো ফরমাল অ্যালিগেশন (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমার কাছে আসে, আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, আইনানুগভাবে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, আমি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।...যদি ফরমাল অ্যালিগেশন আমার কাছে না–ও আসে, আমি ব্যক্তিগতভাবে, মানে আমার প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত আমরা করব।’
শুধু এই বিষয় নয়, এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর) হওয়ার পর সব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ একটি কমিটি করে তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম পেলে, সে বিষয়ে তিনি তাঁর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবেন।
সাইমুম পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকার নাগরিক সমাজে পরিচিত মুখ। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল।