
নতুন সরকারে তিনজন নারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিন নারীই প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন। তাঁরা তিনজনই বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনজনের বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ছিলেন মন্ত্রীও। এখন তাঁরাও বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ৫০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় নারী আছেন ওই তিনজনই। তাঁদের মধ্যে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আফরোজা খানম। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন।
আফরোজা খানম (৬৩) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। আফরোজা খানম বর্তমানে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মায়ের নাম হুরুন নাহার রশিদ। বাবা হারুনার রশিদ খানের পথ ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আফরোজা খানম। তাঁর বাবা চারবারের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীও ছিলেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর বাবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই সময় আফরোজা খানম বাবার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। আফরোজা খানম এর আগে ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, আফরোজা খানম হিসাববিজ্ঞানে বি.কম (স্নাতক) পাস করেছেন। বর্তমানে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তিন সন্তানের মা। স্বামী মইনুল ইসলামও ব্যবসায়ী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম (৫২) ফরিদপুর–২ আসন থেকে নির্বাচন করে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির তৃতীয় মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী। বাবার মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তাঁর মা শাহেদা ওবায়েদ ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। শামা ওবায়েদ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হননি। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, শামা ওবায়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি। তিনি এলিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি দুই সন্তানের মা। স্বামী মোস্তাজিরুল শোভন ইসলাম স্প্যারো এপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ফারজানা শারমিন (৪১) উত্তরাঞ্চল থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচিত একমাত্র নারী সংসদ সদস্য। তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী ফারজানা শারমিন পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন।
ফারজানা শারমিন বিএনপির প্রয়াত নেতা ফজলুর রহমানের (পটল) মেয়ে। তাঁর বাবা ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সমাজকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মা কামরুন নাহার ঢাকার একটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ফারজানা শারমিনের স্বামী এইচ এম বাররু সানি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।