
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানসহ তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া অপর দুজন হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) ও শাহ আলম (৫৯)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমিন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, নিউগিনি প্রপার্টিজের লোকজন নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আসামিরা নির্দোষ। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাঁদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।
রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলার ঘটনাটি নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। নিউগিনি প্রপার্টিজের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই জায়গায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল। বিরোধের জেরে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, আসামি মিজানুর রহমানসহ অন্যরা মিলে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোরও চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিন আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্নার তিন দিনের রিমান্ড গতকাল বুধবার মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁরা বর্তমানে রিমান্ডে আছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের কেনা জমিতে নির্মিত প্রকল্পটি জবরদখল এবং সেখানে সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিলেন আসামিরা।
অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনায়ও ভাঙচুর হয়।
আসামিরা নির্মানাধীন ভবনের সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজ ও নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ নজরুল ইসলামকে মারধর ও জখম করে আহত করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টেলিভিশন, এসিসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।