জাতীয় সংসদ ভবন
জাতীয় সংসদ ভবন

তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে, বিশেষ করে তারল্যসংকটে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান–সম্পর্কিত কমিটি।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমানতের অর্থ তুলে না নেওয়া এবং নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সব অর্থ সরকারি ব্যাংকে জমা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তারল্যসংকটে থাকা ৬টি ব্যাংকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো পদ্মা ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে রাখা আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো হিসাবভিত্তিক সংস্থান রাখেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এসব আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববারের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রাখার ক্ষেত্রে তৎকালীন নিয়ম ছিল, মোট আমানতের ৭৫ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে এবং ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হবে। বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখার ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে এবং ব্যাংকটির সুনাম থাকতে হবে। তবে নিরীক্ষা আপত্তিতে বলা হয়েছে, আমানত রাখার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২০-২১ অর্থবছরের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট প্রতিবেদন এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কেউ যেন দায়মুক্তি না পান, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলেও কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বৈঠকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া ই-বিলিং ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক পরিশোধ এবং দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন–সংক্রান্ত সমস্যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশও করেছে কমিটি। এ ছাড়া খালি কনটেইনারের নামে বন্দর থেকে মালভর্তি কনটেইনার বের করে নেওয়া এবং কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান–সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক ও মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া অংশ নেন।