
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকেরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। গত ১৬ বছরের আওয়ামী সরকারের স্বৈরাচারী শাসনামলে নির্বাচনব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ত্রুটিপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সামগ্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জেলা প্রশাসকেরা সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রকে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী দিনগুলোয় আমলাদের শাসক নয়; বরং সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
স্পিকার বলেন, দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। সাধারণ মানুষের অনেক রক্তক্ষয়ী ত্যাগ–তিতিক্ষার পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংসদকে দুর্বল করে না; বরং শক্তিশালী করে। সংসদ থেকে প্রণীত আইন নির্বাহী বিভাগ বাস্তবায়ন করে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকেরা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করে। কেন্দ্রীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অর্থবহ।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদ, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।