ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা

জুলাইয়ে ৩৬ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯২০৬

দেশে আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে টানা সাত দিন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৪। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়ে মারা গেলেন ৩৬ জন। জুনে ১৩, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে এবং মে মাসে একজন মারা যান। অর্থাৎ আগের ছয় মাসের দ্বিগুণ রোগীর মৃত্যু হলো শুধু জুলাইয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫৩। চলতি বছরে এ সংখ্যা ১৫ হাজার ৩১০। এর মধ্যে জুলাইয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ২০৬‍ জন, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি—৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

জুলাইসহ গত সাত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তে যে ৫৪ রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে নারী ৩৩ ও পুরুষ ২১ জন। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৩১০ রোগীর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪১২ ও নারী ৫ হাজার ৮৯৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় যিনি মারা গেছেন, তিনি নারী। বয়স ২১ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে, খুলনায় মারা গেছেন তিনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৫৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৪ হাজার ৮৯ জন।

সাধারণত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে। বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘ উষ্ণ সময় ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন সংক্রমণ আগেভাগে শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।

কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকবে। সাধারণত এর প্রকোপ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এবার অক্টোবর পর্যন্ত তা চলে যেতে পারে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বাদ দিয়ে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে। গত বছর এই বিভাগের বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল। এ বছর সাত মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩১২। এরপরের অবস্থা চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৬৫১ জন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ হাজার ১২৯, উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৫৯৭, ঢাকা মহানগরের বাইরে ২ হাজার ৫৯, খুলনায় ১ হাজার ৯৪৮, ময়মনসিংহে ৬২০, রাজশাহীতে ৫৬৬, রংপুরে ৩৩০ ও সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে ৯৭ জন।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ ডেন–১, ডেন–২, ডেন–৩ ও ডেন–৪। কোনো ব্যক্তি একবার একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে অন্য সেরোটাইপে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন তার ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। চলতি বছর আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ডেন–৩ সেরোটাইপের প্রাধান্য দেখতে পেয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।