
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সভাপতি পেতে যাচ্ছে জাতিসংঘ।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থিতা পরিবর্তন করে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সদস্যদেশগুলোর ভোটে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
নির্বাচিত হলে কী করবেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান? গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন তিনি। লিখিত বক্তৃতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি হবেন সবার সভাপতি। এ সময় তিনি তাঁর ছয়টি পরিকল্পনার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ওই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। তখন খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর প্রধানমন্ত্রী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদ গ্রহণের জন্য তাঁকে এক বছরের রেহাই দেওয়া হবে। পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয়; বরং তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচিত হলে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন।
এ নিয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন। এখানে কোনো নিয়ম নেই যে উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। এই নির্বাচনে অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আমরা আছি।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ওনার যেহেতু একটা বিশাল অভিজ্ঞতা আছে, ওনার ক্যারিয়ার আছে জাতিসংঘে। সুতরাং আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে বাংলাদেশ জয়যুক্ত হবে এবং আমি মনে করি, অনেক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বাংলাদেশের জন্য; বাংলাদেশের মানুষের জন্য। এটা একটা গর্বের মুহূর্ত হবে বাংলাদেশের জন্য।’