প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, উপাচার্য–কোষাধ্যক্ষ অবরুদ্ধ

আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ (২০তম ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন।

আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে তাঁরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আবাসন ভাতার দাবিতে আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কলাভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসে। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না’, ‘১, ২, ৩, ৪, বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি মোদের অধিকার, বৈষম্যের সাধ্য কার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’, ‘জকসু ও প্রশাসন, দুই দেহ এক মন’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসন ভাতার তালিকা প্রকাশ করে। প্রথম তালিকায় ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮ হাজার ৩৩০ শিক্ষার্থী ও দ্বিতীয় তালিকায় আরও ১ হাজার ৯৮৯ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আবাসন–সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এই তালিকার প্রথম কিস্তির আওতায় আনা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের পরে বিবেচনা করা হবে। এতে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

আন্দোলনরত ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, ‘আবাসন ভাতা আমাদের সবার অধিকার। এখানে বৈষম্য কেন? হলে থাকা অনেক শিক্ষার্থী এবং আবেদন না করেও অনেকে আবাসন ভাতা পাচ্ছে। তাহলে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থাকবে কেন?’

একই শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় আসার পর নবীন শিক্ষার্থীরা আবাসন ও আর্থিক সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগে। টিউশনি পাওয়া অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু প্রশাসন আমাদের বঞ্চিত করে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।’

এই আন্দোলনের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল একাত্মতা প্রকাশ করেছে বলে জানান সংগঠনের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

গত বছরের মে মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘লং মার্চ টু যমুনা’ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আবাসন বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৯ মাস পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসন ভাতার তালিকা প্রকাশ করলেও এই অর্থ কবে নাগাদ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে, সেটা স্পষ্ট নয়।