সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ৪ জানুয়ারি ২০২৬
সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ৪ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের ভবিষ্যতের বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মধ্যে নিহিত: আসিফ নজরুল

দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বেশি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মধ্যে নিহিত।

আজ রোববার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির আওতায় ৪৮ জেলায় মোট ২৮ হাজার ২০০ জন শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবককে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৭ হাজার ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশিক্ষণের কাজটি যথেষ্ট নয়, এটি ধারাবাহিকভাবে চলতে হবে। ১৭ হাজার নয়, এই সংখ্যা হওয়া উচিত ১৭ লাখ।’

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়াসচিব মাহবুবুল আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংয়ের উপযোগিতা রয়েছে। এটাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধাটা হচ্ছে, এখানে চাকরির পেছনে ঘুরতে হয় না। ব্যবসা করতে গেলে সে রকম কোনো বিনিয়োগও লাগে না। বাসায় বসে সবকিছু করা যায়, বড় দোকানও দিতে হয় না।

দেশের বহু মানুষের ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিরাট সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই সুযোগটা চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো প্রচণ্ডভাবে গ্রহণ করছে। আমরা সবে শুরু করেছি। আমাদের এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প, এই ধরনের প্রকল্প আরও অনেক বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে, এর দরকার রয়েছে।’

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করার জন্য দেশে-বিদেশে দালালের পেছনে ঘুরতে হয় না উল্লেখ করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির মহা উন্নয়নের যুগে কে, কোথায়, কখন বসে কাজ করছেন, তা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ না। এই ধরনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যেসব প্রশিক্ষণ প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোকে প্রকল্পের আওতা থেকে বের করতে হবে। অর্থাৎ প্রকল্প শেষ, প্রশিক্ষণও শেষ, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে এ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে ই–লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। তিন মাসব্যাপী ৬০০ ঘণ্টার এ প্রশিক্ষণ কোর্স নিয়মিত তদারক করেন সংশ্লিষ্ট জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকেরা।