ডানো: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের আস্থার প্রতীক

ডানো গুঁড়া দুধ দেশে বেশ জনপ্রিয়
ছবি: সংগৃহীত

শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা প্রবীণ—সবার দৈহিক বিকাশ এবং সুস্থতার জন্যই দুধ আদর্শ খাবার। দুধে বিদ্যমান প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান শরীরের পুষ্টি-চাহিদা নিশ্চিত করে। ঐতিহাসিক কিংবা সামাজিকভাবে দুধ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরই জনপ্রিয়।
কিন্তু মূলত দুটি কারণে সবার কাছে তরল দুধ পৌঁছে দেওয়া হয়ে ওঠে দুষ্কর। প্রথমত, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার অনুপাতে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়া। দ্বিতীয়ত, গরমপ্রধান আবহাওয়ায় বছরজুড়ে রেফ্রিজারেটরের মাধ্যমে দুধ সংরক্ষণের অবকাঠামোর অপ্রতুলতা। এই দুটি ধারণা থেকেই ডানো বাংলাদেশে নিয়ে আসে গুঁড়া দুধের অভাবনীয় ধারণাটি।

১৯৬১ সালে ডানোর মাধ্যমে গুঁড়া দুধের সঙ্গে পরিচিত হয় দেশের মানুষ। আমাদের শৈশবের সঙ্গে জুড়ে আছে লাল-সাদার সেই চিরচেনা নাম—ডানো। টেলিভিশনে ডানোর বিজ্ঞাপনে, মুদিদোকানের শেলফে, সুপারশপে ডানোর প্যাকেট বা কৌটা দেখলে আমরা সবাই যেন ক্ষণিকের জন্য শৈশবে ফিরে যাই। এই ডানোই হয়ে উঠেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের স্মৃতির বাহক, আস্থার প্রতীক, বিশ্বস্ততার অপর নাম। ডানো কীভাবে তার জনপ্রিয়তা যুগের পর যুগ ধরে রেখেছে, আজ তাই জানব।

শত বছরেরও বেশি আগে ইউরোপের নিজস্ব ডেইরি ফার্মের দুধ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতিষ্ঠান আরলা। প্রায় সাড়ে আট হাজার খামারির থেকে নেওয়া হয় বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের কাঁচামাল। খামার থেকে গ্রাহকদের টেবিলে পণ্য পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো যাত্রাটাই থাকে আরলার নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে পনির, মাখন, ইউএইচটি, ইয়োগার্ট, গুঁড়া দুধসহ সব পণ্যের গুণগত মান থাকে অটুট। ‘আরলা’র একটি নিয়মিত পণ্য ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো ‘ডানো’। ডানো ছাড়াও আরলার বেশ কিছু প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ড রয়েছে, যেমন লুরপাক, পুক, ক্যাস্টেলো ইত্যাদি।

আরলার পণ্য ডানোর বাংলাদেশের পথচলাটা ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের। ইউরোপে উৎপাদিত গুঁড়া দুধ সরাসরি চলে আসে গাজীপুরে ডানোর কারখানায়, সেখানেই বৈশ্বিক গুণগত মান বজায় রেখে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের প্যাকেটে পূর্ণ করা হয় এই দুধ।

দুধের সকল পুষ্টি গুণাগুণের পাশাপাশি ডানো দুগ্ধখাতে অসংখ্য অভিনবত্বও নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে দুধের পুষ্টি সহজলভ্য করতে ডানো ডেইলি পুষ্টিই প্রথম নিয়ে আসে ১০ টাকার প্যাকেট। এ ছাড়া ডানোই বাংলাদেশের প্রথম পাউডার দুধের ব্র্যান্ড, যে প্রতিনিয়ত দুধের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই আয়োজনে মানুষের মধ্যে দুধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফ্রি দুধ খাওয়ানো হয় এবং পুষ্টিসম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করা হয়। এভাবে ডানোর মাধ্যমে আরলা প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের মানুষের কাছে নিয়ে আসছে অভিনব সব সমাধান।

ইউরোপের নিজস্ব ডেইরি ফার্মের দুধ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতিষ্ঠান আরলা

ডানো, বাংলাদেশে শুধু একটি গুঁড়া দুধের নামই নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের স্বীকৃতিতে দেশের ‘সেরা মিল্ক ব্র্যান্ড’ হিসেবে গত আট বছর ধরে প্রথম হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক এই ব্র্যান্ড। সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কানটার ওয়ার্ল্ড প্যানেলে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেইরি ব্র্যান্ডের নাম ডানো। কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টি গুণাগুণ ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় বিশ্বব্যাপী আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে ডানো। আর প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিনব সমাধান নিয়ে আসার মাধ্যমে এ দেশের পরিবারগুলোর বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে আছে ডানো, যুগের পর যুগ।