পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানের দায়িত্ব নিলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ (বাঁয়ে)। আজ বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানের দায়িত্ব নিলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ (বাঁয়ে)। আজ বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে

সিআইডিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই দিন আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

আজ বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে ছিবগাত উল্লাহর বিদায় এবং নতুন সিআইডিপ্রধান মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সিআইডিপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে নতুন সিআইডিপ্রধান বিদায়ী প্রধানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

১৬ মার্চ সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিআইডিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেশাগত জীবনে জাতিসংঘের আফ্রিকান ইউনিয়ন-ইউনাইটেড নেশনস হাইব্রিড অপারেশন ইন দারফুর-এ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সিআইডির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সশরীর উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল, পেশাদার ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে কোনো প্রধান বা ব্যবস্থাপক সফল হতে পারেন না—প্রতিষ্ঠানের প্রতে৵ক সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই প্রকৃত সহযোগিতা।

সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন সিআইডিপ্রধান বলেন, শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়; বরং প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনাও দেন তিনি। একই সঙ্গে সদস্যদের উৎসাহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণের জন্য সিআইডিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তারপরও কেউ দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী থাকলে তার জন্য সিআইডিতে স্থান নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে সিআইডির স্বার্থে এবং বাংলাদেশ পুলিশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সিআইডিকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি ‘অ্যাপেক্স ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নতুন প্রধানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায়ী সিআইডিপ্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, তিনি মোট ৩১৩ দিন সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে একটি দক্ষ, সমন্বিত ও প্রতিশ্রুতিশীল টিম গড়ে তোলাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সিআইডি শুধু একটি সংস্থা নয়; বরং এটি একটি পরিবার, যেখানে সব সদস্য আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।