
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী প্রচারণা ও সাইবার সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই কেবল আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরি এবং নারীর বাস্তব সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরার বিকল্প নেই।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। আজ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি হয় বলে সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আলোচকেরা বলেন, নারী আগেও অবহেলিত ছিল, এখন আছে। এখনকার নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো গা শিউরে ওঠার মতো। নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনা কেবল ভাইরাল হলেই সে বিষয়ে আইনি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ–সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি করে অনলাইনে পোস্ট করতে হবে। সেসব পোস্টের নিচে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য আসে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। নেতিবাচক মন্তব্য উপেক্ষা করে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।
বাস্তবে চলচ্চিত্রে নারীকে উপস্থাপন একটি ক্ষুদ্র জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে বলে মনে করেন আলোচকেরা। তাঁরা মনে করেন, সহিংসতা রোধ করতে নারীকে পর্দায় উপস্থাপনে নির্মাতাদের সচেতন হতে হবে, নারীর সত্যিকার জীবনসংগ্রাম তুলে ধরতে হবে। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নারী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দর্শকদের সচেতন করতে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কাজ না করে প্রান্তিক জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে। আর নারী নির্মাতাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে নারীর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ বাড়ছে, যার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তাই নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে এবং বৈষম্য মোকাবিলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দীর্ঘদিন কাজ হলেও বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, নানা ক্ষেত্রে সমাজ যেন উল্টো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে একটি নারীবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে সম্মিলিতভাবে ভাবতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সমাজে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, ‘নির্যাতিত–নিপীড়িত হওয়ার পরও নারীরা যে অগ্রসর হচ্ছে, তাদের ইতিবাচক অবদানগুলো তুলে ধরা জরুরি। কোনো নারী সংগ্রাম ছাড়া এগোয়নি।’
সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা, সম্পাদকমণ্ডলী, কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমাই, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অর্থ উপপরিষদ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম।