টিআইবির প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিং–নির্ভর বলার ভিত্তি নেই’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, তাদের প্রতিবেদনকে শুধু পত্রিকার ‘কাটিং–নির্ভর’ বলার কোনো ভিত্তি নেই। এই বক্তব্য মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছুই নয়।

সরকারের ১০০ দিনের কাজের মূল্যায়নে নিজেদের প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায় টিআইবি।

বিএনপি সরকারের ১০০ দিন নিয়ে গত রোববার টিআইবি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, এই সময়কালে দেশে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে গতকাল সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। তারা কোনো তদন্ত করে না।’ এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।

নিজেদের প্রতিবেদনটি নিয়ে এমন সব আলোচনায় অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছে টিআইবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে টিআইবি তদন্ত করে না। টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়, মূলত গবেষণানির্ভর দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনবিষয়ক অধিপরামর্শ ও জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততাভিত্তিক পরিবর্তনপ্রত্যাশী একটি সংগঠন।’

টিআইবি সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহের পরিসংখ্যান বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা বহুমাত্রিক প্রক্রিয়ায় যাচাই সাপেক্ষে, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংগ্রহ করে থাকে জানিয়ে টিআইবি বলেছে, তবে তা বিবেচনায় নেওয়ার আগে, একদিকে যেমন যথাযথ প্রক্রিয়ায় গুণগত মান যাচাই নিশ্চিত করা হয়, অন্যদিকে তেমনি একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব সূত্রে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়। সুতরাং টিআইবির প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে পত্রিকার কাটিং-নির্ভর এমন অবস্থান শুধু অযৌক্তিক নয়; বরং মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছুই নয়।

শত প্রতিকূলতা ও বিতর্ক সত্ত্বেও অন্য যেকোনো দেশের মতোই দেশের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না, এমন প্রশ্ন রেখেছে টিআইবি। তারা বলছে, টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বা এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে এমন ঢালাওভাবে অবমূল্যায়ন করার যুক্তি নেই।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের আগ্রহের বিষয় সম্পর্কে টিআইবির মূল পর্যবেক্ষণ অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে টিআইবি। তারা বলছে, তবে আগের কোনো মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন, তা টিআইবির উল্লিখিত গবেষণা প্রতিবেদনের পরিধির মধ্যে না থাকায় সংস্থাটির পক্ষে এ ধরনের কোনো মন্তব্য করা যৌক্তিক নয়।