
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের তিন দিনের রাশিয়া সফর থেকে অর্জিত একাধিক ফলাফল তুলে ধরেছে মস্কো। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পারমাণবিক জ্বালানি ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে তাঁর এ সরকারি সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
ঢাকায় রুশ দূতাবাস প্রকাশিত এক সারসংক্ষেপে বলা হয়, সফরকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খলিলুর রহমান ৭ থেকে ৯ জুন রাশিয়া সফর করেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সফরের অংশ হিসেবে ৮ জুন খলিলুর রহমান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কনস্তানতিন কোসাচেভের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। বাণিজ্যিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজতর করাসহ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে নতুন অর্থ প্রদান চ্যানেল ও আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে এ সফরে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় রুশ দূতাবাস।
আলোচনায় খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক কমিশনের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেন, যাতে বাণিজ্য–বিনিয়োগ আরও বাড়ে।
ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) আনুষ্ঠানিক সদস্য হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি তাঁর মেয়াদকালে রাশিয়ার সমর্থনের আশ্বাস দেন।
উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বলে উল্লেখ করে ঢাকার রুশ দূতাবাস।
ঢাকার রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, দুই পক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এ খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা অনুসন্ধানের জন্য রুশ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন খলিলুর রহমান। রাশিয়া এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পারমাণবিক জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ-রাশিয়ার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমানের প্রথম রাশিয়া সফর ছিল এটি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর।