বক্তব্য দিচ্ছেন ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)
বক্তব্য দিচ্ছেন ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)

বাংলাদেশ–পাকিস্তান–ভারত—সব দেশেই গণমাধ্যম একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: ডন সম্পাদক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুশাসন ও দুর্নীতির সংকট প্রায় একই রকম বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা ভারত—সব দেশেই গণমাধ্যম একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে এ কথা বলেন জাফর আব্বাস। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। এই সেশনে আলোচনার বিষয় ‘পলিটিকো-গভর্ন্যান্স ইকোসিস্টেম অ্যান্ড ফ্রি মিডিয়া’। সেশনটির সঞ্চালক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন।

জাফর আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের ‘প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’, দুর্নীতির ধারণা সূচক, সুশাসনের পরিস্থিতি নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছিল, তখন তাঁর মনে হচ্ছিল যেন পাকিস্তানের কথাই বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, সেখানে কোনো ভারতীয় সাংবাদিক থাকলেও হয়তো একই অনুভূতি প্রকাশ করতেন।

বিবিসির সাবেক এই সাংবাদিক ও ডনের সম্পাদক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, বড় শহরকেন্দ্রিক অপরাধ কিংবা ক্ষমতার লড়াই গণমাধ্যমে বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অবহেলিত মানুষের বিষয়গুলো প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। তিনি বলেন, পাকিস্তানে যেমনটি হচ্ছে, তেমনি ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অন্য দেশগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যায়।

এই অভিন্ন সমস্যাগুলো নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করলে আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। জাফর আব্বাস বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

প্রবীণ এই সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকেরা যদি আত্মসমালোচনা করেন তাহলে সরকার ও সমাজ—উভয়ের ওপর ইতিবাচক চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বক্তব্যে গণমাধ্যম, সমাজ ও সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন জাফর আব্বাস। তিনি বলেন, শুধু সরকারের ব্যর্থতা নয়, সমাজের সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেশি।

জীবনমান ও উন্নয়ন নিয়ে পশ্চিমা দেশের সঙ্গে তুলনার প্রবণতার সমালোচনা করে জাফর আব্বাস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন। সুইডেন, নরওয়ের মতো ছোট জনসংখ্যার দেশের সঙ্গে তুলনা না করে, আগে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।

‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে আলোচকেরা। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে

সংকট থেকে উত্তরণে ডন সম্পাদক বলেন, উন্নত দেশগুলোর শিল্প, অর্থনীতি ও স্বাধীনতার কাঠামো ভিন্ন ঐতিহাসিক বাস্তবতায় গড়ে উঠেছে। তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিজেদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুশাসন ও উন্নয়ন নিয়ে পথ খুঁজতে হবে।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, বিবিসির সাবেক সাংবাদিক আনোয়ার শাকিল, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।