
পৃথিবীকে আরও সুন্দর অনুভব দিয়ে দেখতে শিখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুধু সংস্কৃতিতে নয়, রবীন্দ্রনাথ নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন জীবনের সব মাধ্যমে। বৈশ্বিক সংকটকালে তাই বাঙালির জন্য তিনি এক পরম আশ্রয়। বাঙালির অন্যতম সম্পদ রবীন্দ্রনাথ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪১তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলেনের উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তাদের কথায় উঠে আসে এসব কথা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে তিন দিনের এ সম্মেলন উদ্বোধন হয়।
‘তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রদীপ প্রজ্বালন করে উদ্বোধন করেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। তখন মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছিল ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি।
মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনে সর্বস্তরে ছড়িয়ে আছেন। আমাদের বহুবার শোনা গান, তবু প্রতিবার মনে হয়, নতুন করে অনুভব করছি আগুনের পরশমণি ছোঁয়াতে হবে প্রাণে। মানুষের কথার মধ্যেই যে গানের সুর রয়েছে, তা অনুভব করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।’
এ সময় মুস্তাফা মনোয়ারের বক্তব্যে উঠে আসে নোবেলজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজের মূল্যায়নে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ। নাগিব মাহফুজ বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্বসংসারের অনুপ্রেরণা।
মুস্তাফা মনোয়ারের বক্তব্যে স্থান পায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে সুরারোপ থেকে শুরু করে তাঁর চিত্রকলা ও শিল্পকলার দর্শনের কথা। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সন্জীদা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি, স্মরণ করেন সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হককে।
রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি আতিউর রহমান বলেন, ‘এ আয়োজন রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ভূমি পতিসরের কাছাকাছি কোথাও করার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে অনুভব করতে শিখিয়েছেন আমাদের। মানবিক হওয়ার কথা বলেছেন কবি। জীবন আর শিক্ষা যে পৃথক নয়, সে কথাও জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। পতিসরে জমিদারির দায়িত্ব পালনে এসে মানুষের জন্য যে শুভ উদ্যোগ নিয়েছেন, সে সুফল এখনো পাচ্ছি আমরা।’
আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে অনেক সংকট। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়েছে। এমন সংকটকালে রবীন্দ্রনাথের দর্শন সবাইকে আরও বেশি মানবিক হওয়ার প্রেরণা দেয়।
পূর্ব বাংলার প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিতে কতখানি প্রভাব ফেলেছে, সে কথা উঠে আসে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। বৈশ্বিক কালান্তরের এই সময়ে রবীন্দ্রনাথকে আশ্রয় করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
এরপর শুরু হয় একাডেমি ফর মণিপুরি আর্টস অ্যান্ড কালচারের পরিবেশনায় মণিপুরি নৃত্য। ‘আন অমৃতবাণী’ গীতি–আলেখ্য নিয়ে আসেন সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার শিল্পীরা। একে একে মঞ্চে সংগীত, নৃত্য, কবিতা পরিবেশন করেন সেমন্তী মঞ্জরী, লিলি ইসলাম, ছায়া কর্মকার, অশোক সাহা, দিবাকর বিশ্বাসসহ প্রায় ২৫ জন শিল্পী। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০টির বেশি পরিবেশনা। অংশ নিয়েছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিল্পীরা। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন।
পরিষদের ৭২টি শাখার পাঁচ শতাধিক শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকের অংশগ্রহণে আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনের ৪১তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন। ৫ মে, শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে সকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিনিধিদের প্রীতি সম্মেলন। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেলে ‘নদীতীরের প্রেমের গান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সন্ধ্যায় হবে প্রদীপ প্রজ্বালন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৬ মে তৃতীয় দিন শেষ হবে সম্মেলন।