
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ‘স্যাবোটাজের’ (নাশকতা) ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিয়াউল ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কেক কাটেন বলে অভিযোগ এসেছে। আরও অভিযোগ এসেছে টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে তিনি সবাইকে নিয়ে খান।
ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে বুধবার আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পুলিশের গাড়ি থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময় জিয়াউলের গায়ে ভেস্ট দেখা যায়। এ ছাড়া তাঁর হাতে হাতকড়াও দেখা গেছে। আগের দিন মঙ্গলবারও জিয়াউলকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিতে দেখা যায়। এর আগে তাঁকে হাতকড়া পরাতে দেখা যেত না।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাতকড়া দেওয়ার কারণ হচ্ছে তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে জিয়াউল আহসান যেকোনো একটা স্যাবোটাজের (নাশকতা) ঘটনা ঘটাতে পারেন। লকআপে (হাজতখানায়) থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলা মানেন না। জিয়াউল সেখানে কেক কাটেন বলেও তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তিনি টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে সবাইকে নিয়ে খান—এ রকম অভিযোগও এসেছে।
জিয়াউল আহসানের বোন ও তাঁর আইনজীবী নাজনীন নাহারের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আছে বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ যখন তাঁদের কাছে এসেছে, তখন ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিষয়টি রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবহিত করেছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারসহ প্রসিকিউশন দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
জিয়াউল আহসান নাশকতা ঘটাতে পারেন বলে চিফ প্রসিকিউটর যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাকে ভিত্তিহীন বলেছেন এই আসামির আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, কেক কাটার কথা মিথ্যা। ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা জন্মদিন পালনের জায়গা নয়। কেক পাবে কোথায়, কার সঙ্গে কাটে—সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
সবাইকে নিয়ে ভাত খাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, ‘সে কি ওখানে ডেকচিতে করে খাবার নিয়ে যায়? এক টিফিন ক্যারিয়ারে করে তাকে ভাত-তরকারি দেওয়া হয়। সেটা খায়। এখন কেউ যদি পাশে বসে থাকে, তাকে যদি দেয়, সেটা অন্য কথা। তা ছাড়া সব বন্দীর জন্যই বাসা থেকে খাবার আসে হাজতখানায়।’
নাজনীন নাহারের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেন তিনি। নাজনীন বলেন, ‘কোন পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছি, এটা আমার প্রশ্ন।’
জিয়াউলকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে দাবি করে নাজনীন নাহার বলেন, জিয়াউলকে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আনা হচ্ছে।
জিয়াউল আহসানের মামলায় এদিন একজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। এই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন জিয়াউল আহসান।
তখন কী আলাপ হয়েছে তা জানতে চাইলে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কোমর, পিঠ ও ঘাড়ে জিয়াউল ব্যথা পেয়েছিলেন। সে কারণে হেলমেট পরলে সমস্যা হয়।
গাড়ি থেকে নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনার দূরত্ব পাঁচ গজের মতো এবং এখানে নিরাপত্তা রয়েছে—এসব কথা জিয়াউল ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন বলেও জানান নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, তখন ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ‘স্নাইপার শুট করতে পারে’।