
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) নয়জন মারা গেছেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ দেওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১৬ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ৪৬৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৯ জন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৮, খুলনা বিভাগে ১৯১, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮৪, রাজশাহী বিভাগে ৯৭, বরিশাল বিভাগে ১৯৬, রংপুর বিভাগে ৭১ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (দুই সিটির বাইরে) ১৮ হাজার ৭৪০ জন। এরপর আছে খুলনা বিভাগ। উপকূলীয় এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ হাজার ৩৬৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৭৭৬ জন। মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
ডেঙ্গুতে এ বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৭ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮ জন মারা গেছেন। খুলনা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫।
এ বছর ডেঙ্গুতে ঢাকার বাইরের রোগী বেশি মারা গেছেন। আর ঢাকার হাসপাতালে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদেরও অনেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুও সেখানে বেশি হচ্ছে। এর কারণ হলো ঢাকার বাইরে চিকিৎসক ও নার্সরা ডেঙ্গুর বিষয়ে ততটা প্রশিক্ষিত নন। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নাজুক হতে চলেছে।