
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ জুলাই শহীদ মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর (৩৫) বাবা আল আমিন পাটোয়ারী এবং জুলাই আহত আবু জুহামুল ইসলাম (১৮) জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে এই মামলায় মোট পাঁচজন জবানবন্দি দিলেন।
এই মামলায় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানই আসামি। তাঁরা দুজনই গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
দুই সাক্ষীই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে দায়ী করেন। সাক্ষী আল আমিন পাটোয়ারী তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য এবং সাক্ষী আবু জুহামুল ইসলাম তাঁকে গুলি করে গুরুতর আহত করার জন্য এই চারজনের বিচার দাবি করেন।
জবানবন্দিতে আল আমিন পাটোয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় অংশগ্রহণ করেন। সেদিন বিকেলে ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তাঁকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। তখন তিনি লোকমুখে শুনতে পান, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের ডা. আজমল হাসপাতালে আছেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী সেই হাসপাতালে যান। হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, তাঁর ছেলেসহ ১৫ থেকে ২০ জন মেঝেতে মৃত অবস্থায় শুয়ে আছে।
জবানবন্দিতে শিক্ষার্থী আবু জুহামুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হলে আন্দোলনরত ছাত্র–জনতা মিরপুরের অলিগলিতে অবস্থান নেয়। তিনি ছাত্র–জনতার সঙ্গে গলিতে অবস্থান করেন। আনুমানিক বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি প্রচণ্ড শব্দ হয়। তখন একটি গুলি তাঁর বুকে বিদ্ধ হয়ে হাড় ভেঙে বের হয়ে যায়।