
দেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জার্মানভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা লুফথানসার কাছ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারকেন্দ্র (এমআরও) স্থাপনে বিনিয়োগ চায় সরকার। একই সঙ্গে দেশে দক্ষ জনবল তৈরিতেও জার্মানির এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। লুফথানসাকে বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ এমআরও স্থাপনে লুফথানসার বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও লুফথানসার কারিগরি সহযোগিতা চান মন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশে আসা কার্গো ও ডাকের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া ‘উচ্চ ঝুঁকির কার্গো ও ডাক’ (এইচআরসিএম) মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ২০১৭ সাল থেকে এই মর্যাদা বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তার বিষয়ে সব পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নিরাপত্তা নিরীক্ষায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এইচআরসিএম মর্যাদা প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, বিমানের উন্নয়নে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহের সময় এগিয়ে আনা জরুরি। ২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু করার ওপর জোর দেন তিনি।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।