দুই দশক আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের পর গরম পানি ঢেলে হত্যার দায়ে সানাউল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি সানাউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই দশক পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো আজ।
এরশাদ আলম জানান, এদিন আদালত একই সঙ্গে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলী হোসেন, মো. মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ (৫০), মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আবদুল খালেককে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ নভেম্বর সানাউল্লাহ ও রুবিনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন সানাউল্লাহ। ২০০৬ সালের ২ মে যৌতুকের দাবিতে রুবিনাকে বেত দিয়ে পেটান সানাউল্লাহ। একপর্যায়ে গরম পানি তাঁর শরীরে ঢেলে দেন। এতে রুবিনার বুক ও পেট ঝলসে যায়। রুবিনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রুবিনার মা রাবিয়া আক্তার কামরাঙ্গীচর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সানাউল্লাহসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ২০ নভেম্বর সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কামরাঙ্গীচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা। অভিযোগপত্রে সানাউল্লাহ ছাড়া অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দুই দশক পর সেই মামলার রায়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।