
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহতকরণ এবং নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আর এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
আজ বুধবার রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের নাগরিক সংগঠন ওয়েভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও জেন্ডার মডিউল’বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতাবিষয়ক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও ক্যাসকেডিং মডিউল’ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও একশনএইড বাংলাদেশ এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছে।
ইউএন নির্বাচন সহায়তা প্রকল্পের সহযোগিতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও একশনএইড বাংলাদেশের অংশীদারত্বে ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্তকাঠামো শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশের ৮টি জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এই মডিউল দেশে জেন্ডারভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সব কার্যক্রমকে জেন্ডার মূলধারায় আনাসহ জেন্ডার সংবেদনশীলতা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের আরও বেশি আলোকিত করবে।’
স্বাগত বক্তব্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান এই মডিউল তৈরিকে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ভোটারদের সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে মডিউলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইউএন নির্বাচনসহায়তা প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আন্দ্রেজ ডেল কাস্তিলো সানচেজ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য—ভোটার হিসেবে, প্রার্থী হিসেবে, পর্যবেক্ষক হিসেবে কিংবা নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের ক্ষমতায়িত করা। এই মডিউল হস্তান্তরের মাধ্যমে ইউএনডিপি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করল।’
সেশনে উপস্থিত ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তপতী সাহা বলেন, জেন্ডার মূলধারা মানে কেবল নারীকে ভোটার কিংবা প্রার্থী হিসেবে দেখা নয়; বরং এটি আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ও গ্রিপ প্রকল্পের ফোকাল কানিজ ফাতেমার মতে, মডিউলটি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এবং বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের সঠিক পথনির্দেশনা দেবে।
সেশনে পুরো মডিউল তৈরির প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন এর প্রণেতা এবং এইচ অ্যান্ড এইচ রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রধান ইফফাত আরা ইভা। সেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি বিভাগের লিড মরিয়ম নেছা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক (আন্তর্জাতিক) ফৌজিয়া সিদ্দিকী। সেশনে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার উপস্থিত ছিলেন।