
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে কতগুলো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছে কি না?
জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানসম্পর্কিত নতুন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। শীর্ষ সম্মেলনে কোন কোন দেশের কারা যোগ দিচ্ছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট করে তিনি কিছু জানাননি।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আসর বসছে আগামী শনি ও রোববার। এ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানায় ভারত।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চললেও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এদিকে আজ সকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা জানতে চান এক সাংবাদিক।
জবাবে হাসিনা প্রসঙ্গে নিরুত্তর থেকে জয়সোয়াল বলেন, ওই বৈঠক ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। সে সাক্ষাতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আগামী দিনে কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সমৃদ্ধ করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।
ব্রিফিংয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন সহযোগিতা, কানেকটিভিটি, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এ ধরনের আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ সম্পৃক্ততা এগিয়ে চলেছে।