
শিশুরা এখন নিজ পরিবার, স্বজন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও নিরাপদ নেই। শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এমনকি হামে আক্রান্ত হয়েও শত শত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শিশুদের ভবিষ্যৎকে বড় বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে। পরিস্থিতি সামলাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। হামে শিশুমৃত্যু এবং ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এই আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি দেশে রাষ্ট্রীয় অবহেলায় হামের কারণে শিশুমৃত্যু হচ্ছে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি শিশুদের ওপর সব ধরনের নৃশংসতারও প্রতিবাদ জানান।
দেশে আইন-আদালত ও সংবিধান থাকা সত্ত্বেও অপশক্তিগুলো সেসবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল মামুন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এই শিক্ষক বলেন, এই পরিস্থিতি শিশুদের ভবিষ্যৎকে বড় বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে। একমাত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
মিরপুর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু-নারী নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং দেশজুড়ে হামের প্রকোপে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ বাড়ছে। যার ফলে আজ কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়।
হামে চলমান শিশুমৃত্যুর পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিটি হাসপাতালে হামের জন্য পৃথক সেল গঠনেরও আহ্বান জানান সালেহ আহমেদ।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি রেনেসাঁ পারভীন বলেন, ‘আমি প্রথমে একজন নারী। তারপর একজন মা। এমন পরিস্থিতিতে নিজের কন্যাকে কোথাও নিরাপদ দেখছি না।’ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার অভাবে সন্তানকে গৃহবন্দী রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মায়েরা। অথচ অপরাধীরা জামিন পেয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে। এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, হামে যেসব শিশু মারা গেছে, সেটা কাঠামোগত হত্যা। যথাসম্ভব টিকা কেনা হলে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হতো না। অবিলম্বে তদন্ত করে এই অবহেলায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে জোর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, এই বিচার দ্রুত শেষ হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, সদস্য মাঈনুদ্দিন তৈয়ব, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম জুলফিকার, জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, শ্রমিকনেতা নুরুল আমিন প্রমুখ। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।