ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী এবং শ্রেণি, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টিকারীদের প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
নির্বাচনের আগের দিন আজ বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ভোটাধিকার প্রয়োগের এ আহ্বান জানিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচন দেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর। তবে গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা গণবিরোধী পদক্ষেপে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জাতিগত, লিঙ্গভিত্তিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, জনসম্মতি ছাড়াই জাতীয় স্বার্থবিরোধী অস্বচ্ছ বৈদেশিক চুক্তি, সংসদীয় ব্যবস্থায় নারীদের বাছাইকৃতভাবে সংরক্ষিত রাখা এবং সব দল মিলিয়ে মাত্র ৪ শতাংশ নারীকে প্রার্থিতা দেওয়া, জামায়াতসহ বেশ কটি দলে কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বিবৃতিতে আরও বলেছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে পুরোনো কাঠামোই পরিলক্ষিত হচ্ছে। অতিরিক্ত জামানত, প্রচারণায় ফ্যাসিবাদী কায়দায় পেশিশক্তি ও টাকার প্রভাব এবং নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এসব কারণে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ গঠনের লক্ষ্য এখনো দূরে আছে। শ্রমিক, কৃষক, আদিবাসী, নারী ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংগঠনটি ভোটদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত বৈষম্যবিরোধী রাষ্ট্র গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আহ্বান রাখতে চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণ নিজেদের সংগঠিত শক্তি তৈরি করবে এবং গণতন্ত্রবিরোধীদের প্রতিহত করবে। যারা শ্রেণি, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতির ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করে তাদের বিপক্ষে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের রাজনীতি শক্তিশালী করতে হবে। আমরা শ্রেণি, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী সংগ্রামী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।’