
ঢাকার আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল ও কলেজে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় শিক্ষার্থী আশরাফুল আহসানের (জিতু) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে আশরাফুলের বাবা উজ্জ্বল হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির (বাবুল) প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আনোয়ারুল কবির বলেন, প্রেমে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যা করেছিলেন শিক্ষার্থী আশরাফুল আহসান। হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর আশরাফুলকে পালাতে সহায়তা করায় তাঁর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ২৫ জুন সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল ও কলেজে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন আশরাফুল আহসান। তিনি ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উৎপল কুমারের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আশরাফুল পালিয়ে যান। পরে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আশরাফুল বলেন, তাঁর প্রেমিকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অনেক দিন থেকে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক। দুজন একসঙ্গে কলেজে ঘোরাঘুরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে আশরাফুল তাঁর প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে কেক খাচ্ছিলেন। তখন সেখানে আসেন কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার। তিনি আশরাফুল ও তাঁর প্রেমিকাকে বকাবকি করেন। তখন আশরাফুলও শিক্ষক উৎপলকে গালিগালাজ করেন।
জবানবন্দিতে আশরাফুল আরও বলেন, এ ঘটনার পর শিক্ষক উৎপল কুমার আশরাফুল ও তাঁর প্রেমিকার অভিভাবকের কাছে অভিযোগ দেন। এর জেরে আশরাফুলের প্রেমিকা কলেজে আসা বন্ধ করে দেন। পরে আশরাফুল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ি থেকে একটি ক্রিকেট খেলার স্টাম্প নিয়ে সেদিন কলেজে আসেন।
শ্রেণিকক্ষের পেছনে সেটি লুকিয়ে রাখেন। কলেজের মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোণে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্টাম্প দিয়ে অতর্কিত তাঁকে বেধড়ক আঘাত করেন। শিক্ষক উৎপলকে প্রথমে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়। তখন শরীফ নামের অপর এক কলেজশিক্ষক আশরাফুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর ওই শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়া উৎপল কুমারকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেলে আশরাফুল পালিয়ে যান।
জবানবন্দিতে আশরাফুল আরও বলেন, তিনি পালিয়ে প্রথমে মানিকগঞ্জ যান। পরে চলে যান পাবনায়। সেখান থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরে আসেন।
এই মামলায় আশরাফুলের বাবা উজ্জ্বল হোসেনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আশরাফুল আহসান এখনো কারাগারে বন্দী। তাঁর বাবা জামিনে আছেন বলে অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির জানিয়েছেন।