
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। ভর্তি পরীক্ষায় এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) অংশের পরীক্ষা আগে নিয়ে তার ভিত্তিতে বাছাই করে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা যাচাই পদ্ধতি চালুর কথা এসেছে। এ ছাড়া ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কিছু প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ১০ মে ডিনস কমিটির এক সভায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিগত পরিবর্তন, আসন পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
যদিও ডিনদের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো কিছুই চূড়ান্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়গুলো নিয়ে আরও অধিকতর আলোচনা ও পর্যালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। ঈদের পরে বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা বসবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন ডিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ডিনদের মধ্যে প্রাথমিক কিছু আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এমসিকিউ ও লিখিত নেওয়ার কথা বলেছেন। পরীক্ষা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করার প্রস্তাব এসেছে।
এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মাহমুদ ওসমান ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা স্কিল টেস্ট (দক্ষতা যাচাই) করব। স্কিল টেস্টের মধ্যে ল্যাঙ্গুয়েজের স্কিল টেস্ট থাকবে (বাংলা ও ইংরেজি)। তারপর প্রবলেম সলভিং স্কিল (সমস্যা সমাধানের দক্ষতা), সেটা টেস্ট করব।’
বর্তমান পরীক্ষার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ দক্ষতা যাচাই হয় না বলে মনে করেন মাহমুদ ওসমান। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী চাইলেই মুখস্থকরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারে। তবে দক্ষতা যাচাই পদ্ধতি চালুর ফলে একজন শিক্ষার্থী যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভালো থাকে, সে–ই উঠে আসবে। এটা আমাদের ধারণা।’
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন বলেন, ‘বর্তমানে অনেক বিভাগে সিট (আসন) পূর্ণ হয় না। অনেক শিক্ষার্থীই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন বিভাগে সিট খালি থাকে। কী করলে আমরা খালি সিটগুলো পূর্ণ করতে পারব, এ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়।’
মাহমুদ ওসমান আরও বলেন, ‘আমাদের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) এ লেভেল, ও লেভেলের জন্য আগে থেকেই প্রশ্ন করে, এখনো তা–ই করবে। সেটা অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।’
পরীক্ষার পদ্ধতিতে যদি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পরিবর্তন আনতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তাহলে আগামী জুনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দিকটাও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানান এই ডিন।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. মোফাজ্জল হোসেন শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বলেন, শুধু এমসিকিউয়ে ‘কোয়ালিটি অব এক্সাম’ বা পরীক্ষার মান নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে এই পদ্ধতিতে। কারণ, একেক জায়গায় একেক রকম পরীক্ষা হবে। তবে লিখিত পরীক্ষায় দেখাদেখি করা বা কারও কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া সম্ভব নয়।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সভায় প্রস্তাব রাখেন পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নকে বাধ্যতামূলক রেখে বাকি চারটি বিষয়কে ‘অপশনাল’ বা ঐচ্ছিক হিসেবে রাখার। তাঁর ভাষ্যমতে, বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন ছাড়া তৃতীয় বিষয়টিও বাধ্যতামূলক, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভুল করে তৃতীয় বিষয়ের জায়গায় অপশনাল বিষয়গুলোর উত্তর দিয়ে দেয়। এর ফলে প্রতিবছরই কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর খাতা বাতিল হয়ে যায়।
কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মো. আবুল কালাম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ঈদের পরে মিটিং হবে, সেখানে হয়তো কিছু বিষয় আসবে। কিন্তু কোনো বিষয়েই এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছরই ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে এ রকম একটা সভা হয় পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে। নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া যায়, নতুন কোনো কিছু সংযুক্ত করা হবে কি না—এসব বিষয় নিয়েই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে শুধু। এটি রুটিন ওয়ার্কের মতোই, নতুন কিছু নয়।