রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার প্রতিবাদ ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার প্রতিবাদ ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে চারজনকে হত্যা

দায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘাড়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: হিন্দু মহাজোট

প্রশাসনের উচ্চমহল থেকে প্রথম থেকেই রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যার দায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘাড়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘প্রকৃত আসামি’ গ্রেপ্তার না করা হলে আগামী শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে হিন্দু মহাজোট।

‘রংপুরের গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সব সদস্যকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে’ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে গোবিন্দ প্রামাণিক এসব কথা বলেন। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। মানববন্ধন থেকে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সব ক্ষেত্রে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে মানববন্ধনে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, তাঁরা ধরে নিলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি এই হত্যাকাণ্ড করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেগুলো আমলে নেওয়া হচ্ছে না। সেই বাড়ি ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত অচেনা বিভিন্ন মোটরসাইকেলে অচেনা লোকজন অপেক্ষা করেছে, টহল দিয়েছে, রেকি করেছে; পুলিশ সেদিকে নজর দিচ্ছে না। পুলিশ ওই দুজনের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পুরো জিনিসটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

যারা অত্যুৎসাহী হয়ে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিচ্ছে, তাদের অব্যাহতি দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে উল্লেখ করে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, কাদের ইশারায়, কাদের কথায় তারা ধামাচাপা দিচ্ছে, তা জিজ্ঞাসাবাদে বের করতে হবে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের এই তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, প্রশাসনের উচ্চমহল থেকে প্রথম থেকেই এই জিনিসটা হিন্দুদের ঘাড়ে দায় দিয়ে, হিন্দুদের দিয়ে এই জিনিসটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে এই হিন্দু কর্মকর্তাদের এই তদন্তকাজ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এক ব্যক্তির জামার সঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তার জামা মিলে যাওয়া প্রসঙ্গে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, ওই ছেলের বাবা বলেছেন বাসা থেকে যখন গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে, তখন তাঁর গায়ে এই জামা ছিল না। ছিল একটা গেঞ্জি। সবকিছু মিলিয়ে পুলিশ যে ভূমিকা রাখছে, তাতে মানুষ সন্দিহান। এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করেন। কারা দোষী তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং বিচার করতে হবে। কোনো লুকোচুরি, কোনো ধামাচাপা এই দেশের জনগণ মেনে নেবে না।

এই মানববন্ধন ও সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায়। সঞ্চালনা করেন ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজীব কুণ্ডু। সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ কুমার পালসহ অনেকে এ সময় বক্তব্য দেন।