সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

দ্বৈত পেশায় থাকা আইনজীবীদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে এক আইনজীবীর রিট

আইনজীবী হিসেবে সনদ নিয়ে আইন পেশা ছাড়া চাকরি বা ব্যবসা কিংবা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের বিষয়ে আইন–বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত বা সতর্কতা কমিটি গঠনের পাশাপাশি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ওই বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দ্বৈত পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত আইনজীবী যদি সনদ বা লাইসেন্স সমর্পণ না করেন, এ ধরনের পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা বা সতর্কবার্তা দিতে হবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আরজিও রয়েছে রিটে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া আবেদনকারী হয়ে রিট আবেদনটি করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিটটি উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে আইনজীবী যাঁরা আইন পেশার সনদ নিয়ে আইন পেশা ছাড়া চাকরি/ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল আদেশের ৭০ অনুচ্ছেদ ও আচরণবিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন দেন রিট আবেদনকারী।

আবেদনে ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া উল্লেখ করেন, ‘আইন পেশা একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে এ পেশার মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখা। আইনজীবীদের অনেকেই আইন পেশার সনদপ্রাপ্ত হয়ে আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, ঠিকাদারি, আদম ব্যবসা, গাড়ির শোরুম, বিদেশে অবস্থান করে চাকরি, পরিবহন ব্যবসা, ইট, বালু, সিমেন্টের ব্যবসা, মোবাইলের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকান এবং কেউ কেউ আইন পেশার সনদ সারেন্ডার (সমর্পণ) না করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান, বিমা, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, ওষুধের ফার্মেসি, মুঠোফোন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম বা পার্ট টাইম চাকরি করছেন বলে জানতে পেরেছেন, যা বার কাউন্সিল আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘিত হওয়ায় আইন পেশার মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে।'

এতে ফল না পেয়ে গত ১২ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এ অবস্থায় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি করা আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেছেন বলে জানান আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া।