
জীবনে নানা সমস্যা মোকাবিলা করে সন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার স্বীকৃতি হিসেবে ৩৫ মাকে দেওয়া হয়েছে রত্নগর্ভা সম্মাননা। এ বছর সাধারণ বিভাগে ২৫ জন আর বিশেষ বিভাগে ১০ জনকে দেওয়া হয় সম্মাননা।
আজ সোমবার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রত্নগর্ভা মা ২০২৫’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রোডাক্টস এ সম্মাননা দিচ্ছে। সাধারণ বিভাগে রত্নগর্ভা সম্মাননা পাওয়া মায়েরা হলেন তওহীদা ফারুকী বেগম, শাহানা পারভীন লিটা, হাসনা হেনা বেগম, রাজিয়া আক্তার, ফাতেমা বেগম, ফেরদৌসী ইসলাম, তাহমিনা বেগম চৌধুরী, আয়েশা আক্তার, সাহিনা বেগম, খায়রুন নেছা আক্তার, কানিজ ফাতেমা, জান্নাতুন নাহার, কামনা রানী ঘোষ, ফিরোজা বেগম, হাসনারা বেগম, রাশিদা বেগম, রহিমা বেগম, রেহানা বেগম, হামিদা বেগম, রোকেয়া বেগম, আক্তার খাতুন, রোকেয়া বেগম, অরুনা রানী সরকার, নাসরিন সুলতানা ও রীনা রানী সাহা। বিশেষ বিভাগে সম্মাননা পেয়েছেন রীতা সেন, হোসনে আরা বেগম, রাহেনা আক্তার খানম, জহুরা খাতুন, অনুভা ঘোষ, রেজিয়া বেগম, খোরশেদা বেগম, রীনা বেগম, শেফালী বেগম ও মাহবুবা ফারুক। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে মানুষের যে নৈতিক অবক্ষয়, তার মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার প্রধান কৃতিত্ব মায়েদের। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আদর্শিক শিক্ষক ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে ভুগছে। তিনি মায়েদের আহ্বান জানান যেন তাঁরা নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখেন এবং মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আজাদ প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ প্রত্যেক সন্তানকে মাকে ভালোবাসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনটি আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।’ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ প্রত্যেক সন্তানকে যেকোনো পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন মা যখন তাঁর সন্তানকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন, সেটিই সন্তানের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মিমি আলাউদ্দীন ও রবি চৌধুরী। বিশেষ সম্মাননা পাওয়া মা হোসনে আরা বেগম লাঠিতে ভর দিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সঙ্গে তাঁর স্বামী ও ছেলেমেয়ে। সন্তানদের সুশিক্ষিত করার সম্মাননা নিতে এসে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো স্বীকৃতিতেই মন ভরে না, সন্তুষ্টি আসে না। যদি না ছেলেমেয়েরা প্রকৃত মানুষ হয়। মা হিসেবে এটি পরম প্রাপ্তি।