পিএসসির লোগো
পিএসসির লোগো

আর্থিক স্বায়ত্তশাসন পাচ্ছে পিএসসি, অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

আর্থিক স্বায়ত্তশাসন পাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এর ফলে পিএসসির জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হবে না।

আজ সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬–এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

অনুমোদন করা অধ্যাদেশের খসড়ার বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সরকার প্রতি অর্থবছরে কমিশনের ব্যয়ের জন্য তার অনুকূলে বাজেটে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ দেবে। অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে বরাদ্দ করা এই অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হবে না।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন চেয়ে এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করে গত মাসের মাঝামাঝিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল পিএসসি। খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন পিএসসির চেয়ারম্যান।

নিয়োগপ্রক্রিয়াসহ প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়াতে পিএসসির আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন বলে মনে করেন পিএসসির নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের ভাষ্য, বর্তমানে আর্থিক বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক স্তরের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় লাগে এবং কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়।

পিএসসি জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংবিধানে যে স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। কমিশন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অন্যান্য অধিদপ্তরের মতোই বিবেচিত হয়ে আসছে। সংবিধান অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দের যে বিধান রয়েছে, পিএসসির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয় না। ফলে কমিশনকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এতে কমিশনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে, এমনটাই পিএসসির দাবি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা বলছে কমিশন। বিধি প্রণয়ন বা সংশোধন, প্রার্থী বাছাই কিংবা পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজে সরকারের ওপর নির্ভরতার কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।