বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারের সভাকক্ষে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে মেলার ঘোষণা দেয়। ঢাকা। ২৯ জানুয়ারি
বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারের সভাকক্ষে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে মেলার ঘোষণা দেয়। ঢাকা। ২৯ জানুয়ারি

পয়লা ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হবে প্রতীকী বইমেলা

অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রতীকী মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বাংলা একাডেমির সম্মতি নিয়েই একাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারের সভাকক্ষে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রকাশক সাঈদ বারী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, দেলোয়ার হোসেন, লেখক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কবি কৌমুদী নার্গিস, সাংস্কৃতিক কর্মী খন্দকার শাহ আলম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অমর একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে বাংলা একাডেমি তথা সরকার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। বায়ান্নর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর পয়লা ফেব্রুয়ারিতে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়। এই মেলা আজ বিশ্বপরিসরেও প্রতিষ্ঠিত এবং গুরুত্ব অর্জন করেছে, বিপুলসংখ্যক লেখক, পাঠক সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অমর একুশে বইমেলা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও হয়, বাংলা একাডেমি গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা করার দাবিতে লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের নিয়ে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়।

বইমেলা কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলে তারা মনে করে না। তাদের ভাষ্য, পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করে নির্বাচনের দিন ও তার আগে–পরে আরও দুই দিন মেলা বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন বলে সংগ্রাম পরিষদের লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বহু জীবনের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ এটা প্রত্যাশা করে না।

এমন পরিস্থিতিতে মহান ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থেকে একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মেলার উদ্বোধন করবেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জানানো হয়, এই মেলার সঙ্গে বাংলা একাডেমির কোনো বিরোধিতা নেই। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলায় প্রতীকী বইমেলার আয়োজক–প্রকাশকেরা অংশ নেবেন।

আয়োজকেরা জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রতীকী মেলায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মেলায় বিশিষ্ট লেখক, কবি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবেন। আর মেলার মঞ্চে সারা দিনই  থাকবে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রাণের টানে ভাষার মাসের প্রথম দিনের বইমেলায় বাংলা সংস্কৃতির অনুরাগীদের বিপুল সমাগম ঘটবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।