কারাবন্দী হাসানুল হক ইনুকে মামলার শুনানির দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়
কারাবন্দী হাসানুল হক ইনুকে মামলার শুনানির দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হাসানুল হক ইনুর ৬৪ পৃষ্ঠার বক্তব্য

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন আসামি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এতে তিনি বলেছেন, ‘আমার নামে আনীত সমস্ত অভিযোগ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। যে হত্যাকাণ্ডের জন্য আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে আমি এবং আমার দল জাসদের বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই। এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ মঙ্গলবার লিখিতভাবে এ বক্তব্য দেন হাসানুল হক ইনু। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আগামী ২ এপ্রিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

লিখিত বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘২৪–এর আন্দোলনে কাউকে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো মানুষের ওপর একটা লাঠিচার্জেরও বিরুদ্ধে ছিলাম আমি। তবু আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিদ্বেষপ্রসূত, ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি সম্পূর্ণ নিরপরাধ।’

হাসানুল হক বলেন, ২৪–এর আন্দোলনে শুরু থেকেই সব জায়গায় বারবার তিনি বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার টেবিলে বসে সমাধানের কথা বলেছেন। আন্দোলনের শেষের দিকে এসে যখন বুঝলেন সরকারের এই যাত্রায় টিকে থাকা সম্ভব নয় তখনই সরকারপ্রধানকে বলেছিলেন, ‘এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’ আত্মবিশ্বাস ছিল তাঁর কোনো আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

সে জন্য ২০২৪ সালের ৩ ও ৪ আগস্ট তাঁর কাছের মানুষজন তাঁকে দেশের বাইরে চলে যেতে বলেছিলেন উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, এমনকি সব ব্যবস্থাও করেছিলেন। তিনি তাঁদের একটা কথাই বলেছিলেন, ‘আমি তো কোনো অন্যায় করিনি, তাহলে যুদ্ধ করে স্বাধীন করা আমার দেশ ছেড়ে আমি চলে যাব কেন?’ সরকার পতনের পর সবাই তাঁকে তাঁর বাসা ছেড়ে লুকিয়ে থাকতে বলেন। তিনি তাঁদের কথা শোনেননি। একাধিক দিন বাসাতেই ছিলেন। এমনকি ঢাকার রাস্তায় কাজের প্রয়োজনে চলাচলও করেছেন।

ওই ভবনে আরও সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকতেন উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, একদিন বাসার নিচে কিছু লোক চলে আসে ‘মব ট্রায়াল’ করতে। পরে পুরো ভবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাসা ছেড়ে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে থাকেন তিনি। এখন এসে বুঝলেন দেশের মাটি ছেড়ে চলে যেতে না চাইলেও দেশের অনেকে হিংসাপরায়ণ হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে।

এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। হত্যার নির্দেশসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদ সদস্য আরমানকে জেরা

দ্বিতীয় দিনের মতো জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ তাঁকে জেরা করা হয়।

জেরায় মীর আহমাদ বলেন, গুম কমিশন তাঁর কাছে প্রাথমিকভাবে যেসব সেলের ছবি অনলাইনে পাঠিয়েছিল, সেগুলো তাঁর সেলের ছবি ছিল না। তখন তিনি তুরস্কে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ কথা সত্য নয় যে তিনি যে সেলে ছিলেন সেটি তিনি শনাক্ত করতে পারেননি বিধায় গুম কমিশনও শনাক্ত করতে পারেনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জেরা করা হয়। এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি জবানবন্দি দেন তিনি। এরপর গত রোববার তাঁকে প্রথম দিনের মতো জেরা করা হয়। এই মামলায় বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট আসামি ১৭ জন।

মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে র‌্যাব–১–এর কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর প্রধান উপদেষ্টা এবং গুম কমিশনের সদস্যরা সেখানে যান। তাঁকে একাধিকবার র‌্যাব–১–এর কম্পাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।