গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির খরচ কমানোর উদ্যোগ কেন ভেস্তে গেল

সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে অর্ধেকে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশাসনের তীব্র আপত্তির মুখে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরতে হয়েছে। কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, আর কেনই–বা তা প্রত্যাহার করতে হলো, এ নিয়ে সরকারের ভেতরেই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ সরকারকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে, একই সঙ্গে প্রশাসনে বিতর্ক তৈরি করেছে।

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক প্রথম আলোকে বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অতি উৎসাহী’ কিছু কর্মকর্তা সরকারের কাছে ভালো সাজতে গিয়ে এমন কাজটি করেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমালে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সেটি আমলে নেননি।

সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করতে ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে সরাসরি ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা’ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এটা সচিবালয় নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন।

আবার এমন কথাও আসছে, এ ঘটনা আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকারের বার্তা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোই শুধু নয়, পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণের (ডেপুটেশন) পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবও একইভাবে পাঠানো হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। দুটি বিষয়েই প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হয়।

আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। এমনকি এতে কত টাকা সাশ্রয় হবে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তা–ও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি।

ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভাষাও ছিল অশোভন। সরকারি চিঠি লিখতে সরকারের নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

জুলাই শুধু গাড়ি-সুবিধা কমানোর চিঠিই পাঠানো হয়নি। উপসচিব থেকে শুরু করে ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা এত দিন গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। আরেকটি চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তাদের এই সুবিধাও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিদ্যমান ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ি সেবা নগদায়নের আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ আর্থিক সুবিধা পান, তা কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে। মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার হারে নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘সদয় নির্দেশনার’ পরিপ্রেক্ষিতে মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা’ কেন

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠির ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। চিঠিতে বলা হয়, মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে’।

সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ চিঠির ভাষা সঠিক হয়নি। এ চিঠি সচিবালয় নির্দেশমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দেশের চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে একশ্রেণির সুবিধাভোগী কর্মকর্তার অসন্তোষের মুখে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা স্বাভাবিক নয়; বরং এটি আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণেরই বহিঃপ্রকাশ।
ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি

সচিবালয় নির্দেশমালার ১৫০–এর ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারের কোনো আদেশ জ্ঞাপন–সংক্রান্ত চিঠিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এমন কোনো বিষয় উল্লেখ থাকবে না। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, এমন বিষয় চিঠিতে উল্লেখ করতে হবে।

কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে সরাসরি ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা’ উল্লেখ করা হয়, যা সচিবালয় নির্দেশিকার পরিপন্থী এবং এতে সিদ্ধান্তের দায় ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে দুটি চিঠি, বাড়ে অসন্তোষ

৯ জুলাই শুধু গাড়ি-সুবিধা কমানোর চিঠিই পাঠানো হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা এত দিন গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। ওই দিনে আরেকটি চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তাদের এই সুবিধাও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দুই সিদ্ধান্ত একই দিনে আসায় প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

পরে আরও একটি চিঠিতে বৃত্তি পেয়ে দেশে বা বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণ (ডেপুটেশন) বাদ দিয়ে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়ে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতেও ক্ষুব্ধ হন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্দেশনা’ রয়েছে জানিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশে ও বিদেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ পাওয়া কর্মকর্তারা পড়াশোনা, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা পান। প্রেষণের ফলে স্কলারশিপের পাশাপাশি পূর্ণ বেতন-ভাতার সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রেষণ বা পূর্ণ বেতন-ভাতার পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ওই সময়ে বেতন অর্ধেক পাওয়া যাবে। এটি হলে কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা কমবে।

গাড়ির খরচ পান ৭২০০ কর্মকর্তা

প্রশাসনের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর চিঠি জনপ্রশাসনে পৌঁছানোর পর এ নিয়ে প্রশাসনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। শুধু প্রশাসনেই নয়, সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনেও ক্ষোভ তৈরি হয়। কারণ, মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ৫০ হাজার টাকার সুবিধা শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা নন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারাও পেয়ে আসছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপসচিব পদমর্যাদা বা তদূর্ধ্ব বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের ৪০০ জন কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭,২০০ কর্মকর্তা এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, কোনো ধরনের পর্যালোচনা না করে, কারও সঙ্গে আলোচনা না করে অর্থ মন্ত্রণালয় কেন স্পর্শকাতর বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিল? এ ধরনের বিষয়ে ভেবেচিন্তে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো। তা ছাড়া সরকারের খরচ কমানোর অনেক উপায় আছে ও খাত আছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, প্রশাসনের ভেতরে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ১৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন চিঠি দিয়ে জানায়, উপসচিব থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার থেকে অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না। এ খরচ ৫০ হাজার টাকা বহাল থাকছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, প্রশাসনের ভেতরে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ১৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, উপসচিব থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার থেকে অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না।

এদিকে মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমানো এবং কর্মকর্তাদের শিক্ষা ছুটি-সংক্রান্ত চিঠিতে স্বাক্ষরকারী যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই তাঁকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তির আদেশ হয়।

কী কারণে জাকির হোসেনকে বদলি করা হয়েছে, তার সুষ্পষ্ট কারণ জানা না গেলেও তাঁর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশাসনে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, শুধু মধ্যম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু যাঁদের সিদ্ধান্তে এত কিছু হলো, তাঁদের বিষয়ে কী হবে?

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, বিশেষ সুবিধা পাওয়া একশ্রেণির আমলার অন্যায্য প্রভাবের কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে একশ্রেণির সুবিধাভোগী কর্মকর্তার অসন্তোষের মুখে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা স্বাভাবিক নয়, বরং এটি আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণেরই বহিঃপ্রকাশ।

দুটি প্রস্তাব পর্যালোচনার নির্দেশ

‘ভুল-বোঝাবুঝি’ নিরসনে এখন অর্থ মন্ত্রণালয়কে নতুন করে যানবাহন নিয়ে দুটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর একটি প্রস্তাব হলো, একজন কর্মকর্তাকে সরকারি গাড়ি, চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দিলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় কত হবে। আর দ্বিতীয় হলো, বিদ্যমান পদ্ধতির মতো একজন কর্মকর্তাকে সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কেনার সুযোগ থাকবে। এই দুটির মধ্যে কোনটি সাশ্রয়ী, তা মূল্যায়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে অর্থ বিভাগ প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তাদের সরকারি অর্থায়নে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনা।

ওই নীতির প্রধান যুক্তি ছিল, সরকারি পরিবহন পুলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো; চালক, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, টায়ার, ওভারটাইম ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানো; সরকারি গাড়ির বহর ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে গাড়ি পরিচালনা করায় সরকারের পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমানো।

কর্মকর্তারা বলছেন, এ নীতির ফলে সরকারের পরিচালন ব্যয় দীর্ঘ মেয়াদে কমে আসে। সরকার আবার যানবাহন কিনে দিলে এবং জ্বালানি তেল, চালক ও রক্ষণাবেক্ষণের টাকা দিলে খরচ বাড়বে।