আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আনা হয় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে
আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আনা হয় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুনে হাসলেন মেনন ও মানিক

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কটূক্তির অভিযোগে মানহানির মামলায় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদিন মানহানির অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুনে হেসে দেন তাঁরা।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার দেখান।

আজ সকাল ১০টায় তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো হয়। দুই হাত পেছনে নিয়ে পরানো হয় হাতকড়া। এরপর হাজতখানা থেকে তাঁদের বের করে নেওয়া হয় আদালতে। তাঁদের মাথার হেলমেট ও হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। তখন সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিট, আরও ২০ মিনিট পর বিচারক এজলাসে উঠেন। তখন শুনানি শুনতে কাঠগড়ার সামনে অংশে আসেন রাশেদ খান মেনন ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। মামলার বাদী তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। বিভিন্ন সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নামে রাশেদ খান মেনন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের করা কটূক্তিমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা।

শুনানির এ পর্যায়ে কিছুটা ঝুঁকে কাঠগড়ার লোহার ওপর বাঁ হাত বাঁ গালে রাখেন রাশেদ খান মেনন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দিকে তাকিয়ে শুনানির প্রতি গভীর মনোযোগ দেন। তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে শুনানি শুনছিলেন বিচারপতি মানিক।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দিকে তাকিয়ে বলেন, মেনন ক্ষমতায় থাকতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কটূক্তি করতেন। তিনি প্রতিটা প্রেস ব্রিফিং এ তাঁদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন। তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করেছেন। আল্লাহ পাক এ সময় এসে তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানকে সম্মানিত করেছেন।

আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, এ মামলার অন্য আসামি হাসানুল হক ইনুও ক্ষমতায় থাকাকালে একইভাবে কটূক্তি করতেন। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন দাম্ভিক ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছেন। শামসুদ্দিন মানিককে আল্লাহ পাক লাঞ্ছনার সঙ্গে এ আদালতে উপস্থিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে রাশেদ খান মেনন লোহার রেলিং থেকে হাত সরিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। পেছনে থাকা সাবেক বিচারপতি মানিকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীও হাসেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে মানিকের আইনজীবী নঈমুল হক মজুমদার আদালতের উদ্দেশে বলেন, এটা একটি মিথ্যা অভিযোগ। বিচারপতি মানিক সব সময় জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের সব নেতাদের শ্রদ্ধা করতেন। এ মামলার অভিযোগে সম্পূর্ণটাই সাজানো।

নঈমুল হক মজুমদার আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা দিয়েছে। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। টক শোতে কে কি বলল, এগুলো নিয়ে মামলা, হয়রানি ছাড়া কিছুই না।’

পরে আদালত মেনন ও মানিককে গ্রেপ্তার দেখান। একই সঙ্গে হাসানুল ইনুর উপস্থিতিতে পরবর্তী সময় শুনানির দিন ধার্য করেন।

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে জিয়াউল হক নামের এক আইনজীবী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামি হলেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর চ্যানেল আইয়ের টক শো ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্টে’ জিয়াউর রহমানকে রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী।

২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ ছাড়া আসামিরা বিভিন্ন সময়ে জিয়া পরিবার নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন।

মানহানিকর এই বক্তব্য দেওয়ায় তাঁর এবং তাঁর দলের (বিএনপি) ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।