অতিথি ও শিক্ষকদের সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৭ অক্টোবর
অতিথি ও শিক্ষকদের সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৭ অক্টোবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার’ পেলেন সাত শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ২০২৬’-এ দুই ক্যাটাগরিতে বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী পুরস্কার ও বৃত্তি পেয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ।

স্নাতকোত্তর গবেষণা প্রস্তাব ও সেরা স্নাতকোত্তর গবেষণা—এই দুই ক্যাটাগরিতে বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী পুরস্কার ও বৃত্তি পেয়েছেন। সেরা স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার পেয়েছেন অর্থী নবনীতা ও ফারাহ জাহান শুচি। আর স্নাতকোত্তর গবেষণা প্রস্তাব বৃত্তি পেয়েছেন ফারাহ জাহান শুচি, উসামা রাফিদ, আজরা হুমায়রা, কৌরিত্র পোদ্দার তীর্থ, মোহাম্মদ আল মুকিত ও মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক। তাঁদের মধ্যে ফারাহ জাহান শুচি দুই ক্যাটাগরিতেই পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলী রীয়াজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে তরুণদের মুক্তচিন্তা, যুক্তি ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার চর্চা করার আহ্বান জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রশ্ন করুন—কেন? শুধু সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই প্রশ্নটা করা। এই পৃথিবীটা আপনাদের।’

তরুণদের সবচেয়ে বড় শক্তি যুক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারুণ্যের শক্তি যেন ঔদ্ধত্যে পরিণত না হয়। যুক্তি শাণিত হতে হবে, তবে তা যেন তরবারিতে পরিণত না হয়। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, স্বৈরাচারকে পরাস্ত করা গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ। তবে গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই প্রকৃত গণতান্ত্রিক অংশীদারত্ব তৈরি হয়।

প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘অ্যালগরিদম যেন আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অ্যালামনাইদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে সাবেক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এনডাউমেন্ট ফান্ড (স্থায়ী আর্থিক তহবিল) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তাঁদের গবেষণার স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা দেবে।

আলী রীয়াজ ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ ভবিষ্যতে বাড়ানোরও আহ্বান জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘ সময় পর অনেক ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। ফলে এসব তহবিল থেকে আগের মতো বৃত্তি বা পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই সময়ের সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাধারণত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বা বৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের সিজিপিএকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আলী রীয়াজ ট্রাস্ট ফান্ড গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার নতুন একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

অল্প অর্থায়নে শিক্ষার্থীরা যে পরিণত ও মানসম্মত গবেষণা করতে পারেন, অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণাগুলো তার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। এর আওতায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও বৃত্তি দেওয়া হয়।