
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। পাশাপাশি আগামী বাজেটেই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং নীতিগত সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধূরী এ কথা বলেন। বইটির লিখেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
দেশের কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা ব্যয়ের বড় একটি অংশ কোচিং খাতে ব্যয় হচ্ছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দুর্বলতা, পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, ধারাবাহিক মূল্যায়নপদ্ধতি জোরদার না করে উচ্চ ঝুঁকির পাবলিক পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষায় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা বেশি সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষাধারাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সমতাভিত্তিক ব্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার সঠিক নজরদারি প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি জোরদারের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা ও তথ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে নীতি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও চিন্তক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, সাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুন নূর তুষার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নিয়ে নীতিনির্ধারণমুখী ও গবেষণাভিত্তিক একটি বই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেন বারবার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তার কারণ নিরূপণ ও সমাধানের প্রস্তাব উঠে এসেছে এই গ্রন্থে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাগত উৎকর্ষের নিয়ামক হিসেবে নতুন করে নকশা করার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বইটিতে।