আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের সামনে মানববন্ধন করে ক্যাব
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের সামনে মানববন্ধন করে ক্যাব

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে লুণ্ঠন বন্ধ করে মূল্যহার কমানোর দাবি ক্যাবের

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা, অন্যায্য মুনাফা ও অযৌক্তিক ব্যয় বন্ধ করে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি বলেছে, মূল্যহার বাড়ানোর পরিবর্তে লুণ্ঠন ও অপচয় বন্ধ করা গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে আইনি সংস্কারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয় বলে সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বিইআরসি আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির আগে ক্যাব এই কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিইআরসি বারবার জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ও কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তাঁর দাবি, বিইআরসির অপসারণ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তা ও জনগণের কথা বিবেচনা না করে মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্যাস ও বিভিন্ন উৎসের বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার ও কোম্পানিগুলো যেভাবে জনগণের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা হলে জনগণের কোনো উপকার হবে না।

এদিকে বিইআরসিকে জনবান্ধব করার দাবি বারবার জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো কেন মুনাফাখোরদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেন রুহিন।

ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র রোদ্দুর ধর বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন নামে দুর্নীতি ও অনিয়মের অর্থের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়ে বিইআরসি কার্যকর গণশুনানি আয়োজন করে না। তিনি বিইআরসি আইনের কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কমিশনের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিইআরসি আইনের কাঠামোগত সংস্কার, সব ধরনের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বেঞ্চমার্ক মূল্যহার গণশুনানির ভিত্তিতে নির্ধারণ, জ্বালানি অপরাধের বিরুদ্ধে ভোক্তাপক্ষের মামলা করার অধিকার, ভোক্তাপক্ষের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব করার অধিকার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধ করা।

এ ছাড়া সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা মুনাফামুক্ত করা, লুণ্ঠনমুক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় ও অপচয় বন্ধ করে ভর্তুকি ও মূল্যহার কমানো এবং জ্বালানি অপরাধীদের বিচার করার দাবিও জানানো হয়।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও ট্যারিফ নির্ধারণে ভোক্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বিইআরসিকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ক্যাবের দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লুণ্ঠনমুক্ত করার দাবি জানান।