গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারগুলোও তুলে ধরেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠককালে প্রতিমন্ত্রী এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকদের আর্থসামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। এ বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের বর্তমানে আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ধারা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তিনি সংঘাত-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী ও যুব সমাজকে আরও বেশি অংশ নিতে আহ্বান জানান।

নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকটের একমাত্র কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন খালেদ খিয়ারি। বিশেষ করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।