
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব মো. মোখতার আহমেদ। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। কোন প্রক্রিয়ায় দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, তার প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এটি নিশ্চিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
আজ বুধবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ কথা বলেন সচিব মোখতার আহমেদ। এর আগে তাঁর কাছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয় নিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যরা। এ সময় বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর বিষয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।
স্মারকলিপিতে দাবির মধ্যে বলা হয়, তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ প্রদান, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য নিরসন, অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সব যোগ্য মেডিক্যাল সেন্টারকে উন্মুক্তকরণ এবং বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা।
যৌক্তিক দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রবাসীকল্যাণসচিব বলেন, এর মধ্যে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে দালাল ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ কর্মীদের রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে এ রকম অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘ত্রিপল আ ওভারসিজ’–এর অফিস সিলগালা করা হয়েছে, জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং তিন বক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
সচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।