শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা

প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্য

রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আজ মঙ্গলবার সাক্ষীদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।

আজ যে ছয়জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা হলেন সোনালী ব্যাংকের গণভবন শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার গৌতম কুমার সিকদার, প্রিন্সিপাল অফিসার শরিফুল ইসলাম, কর অঞ্চল-৬–এর কর পরিদর্শক লুৎফর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর রেজাউল হক, নোটিশ সার্ভার আবু তাহের এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক দেলোয়ার হোসেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মোহা. মঈনুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে জয় ও মেয়ে পুতুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জন আদালতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আরও সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

দুদকের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে জয় এবং মেয়ে পুতুলের বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউকের মামলাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র আদালতের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের দুদকের করা পৃথক ছয় মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দুই বিশেষ জজ আদালত।

শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয় মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।

দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া তাঁর পরিবারের অন্য অভিযুক্ত সদস্যরা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি)।

মামলায় শেখ হাসিনা পরিবারের বাইরে অপর অভিযুক্ত ১৬ জন হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্তের তৎকালীন সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য কবির আল আসাদ, সদস্য তন্ময় দাস, সদস্য নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার।