
‘বিচার সম্পর্কে জানতাম না, তামাদি মওকুফ চাই’—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ধরনের সুযোগ নিতে পারবেন না বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। আজ রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনকে (অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ‘এই যে ফিরে আসার ব্যাপারটা আমরা যেভাবে দেখছি, সেটা হলো...যারা পলাতক থাকে, তারা ফিরে এসে সব সময় একটা কথাই বলে, সেটা হলো যে আমি এই প্রসিডিংস সম্পর্কে জানতাম না। যেহেতু আমার অগোচরে হয়েছে, অতএব আমি এই তামাদি মওকুফ চাই।…আমি যেহেতু জানতাম না, আমাকে ডিলে কনডোন (বিলম্ব মওকুফ) করে দেন, আমি বিচারের সম্মুখীন হতে চাই।’
দণ্ডিত শেখ হাসিনাসহ এই মামলার আসামিরা ‘এই প্লি–টা (আবেদন) কোনোভাবেই নিতে পারবেন না’ বলে উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। তিনি বলেন, ‘কারণ তাঁরা এই মামলা সম্পর্কে জানেন এবং সেখানে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে তাঁরা মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন। অতএব তাঁরা কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগটা আর নিতে পারবেন না, যখন আমরা দেখাব যে—না, তাঁরা অলরেডি মামলার কথা জেনে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।’
বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, সেই চুক্তির আলোকে ভারতের যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে যার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্ট আছে অথবা কনভিকশন ওয়ারেন্ট আছে, তাঁকে প্রত্যর্পণ করতে পারে আইনগতভাবে। এ রকম সুস্পষ্ট চুক্তি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আছে। সেই মোতাবেক শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে। এখানে কোনো শর্ত দেখানোর সুযোগ নেই।