
বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেছে। এ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহযোগিতা, দ্রুত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করা।
আজ রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এসব বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফল চীন সফরের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অংশীদারত্বভিত্তিক যৌথ ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’-এ উন্নীত করার বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চীনের নির্বাহী উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জিত ফলাফলের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতা।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, সিইআইজেড প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানিকে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় প্রায় এক লাখ বাংলাদেশির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উভয় পক্ষ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার সহযোগিতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপের দ্রুত সূচনা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করা, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার বিষয়েও তাঁরা কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন আগামী দিনের উচ্চপর্যায়ের বিনিময় ও সফরসমূহ সম্পর্কেও হুমায়ুন কবিরকে অবহিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো–অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) সহসভাপতি, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী উপগভর্নরের পরিকল্পিত বাংলাদেশ সফর।
চীনা রাষ্ট্রদূত এ বছরের অক্টোবরে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।